জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও লালমনিরহাট-৩ (লালমনিরহাট সদর) আসনের সংসদ সদস্য জি এম কাদের লালমনিরহাটে পুলিশের হেফাজতে নিহত রবিউল ইসলামের গ্রামের বাড়ী কাজীর চওড়া গিয়ে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি পরিবারটিকে প্রতি মাসে ৫হাজার টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করারও সুপারিশ জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে নিহত রবিউল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তিনি এ অনুরোধ জানান।
জিএম কাদের বলেন, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আমি মর্মাহত। পুলিশ হেফাজতে একজনের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশ জনগণের সেবক কিন্তু পুলিশের হাতে মানুষ মারা গেলে তা মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধুমাত্র এই পরিবারের জন্য নয়, সমগ্র দেশের জন্য একটি খারাপ লক্ষণ। "
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, "আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দোষী নন। তাই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা ও যাচাই-বাছাই করা দরকার। তাদের কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে সত্য প্রকাশের দায়িত্ব সবার।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি উপরের সবার সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্ত হবে নিরপেক্ষ। তারা আমাকে নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। '
এ সময় রবিউলের সন্তান যতদিন ছোট থাকবে, কাদের তাকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা। এ ছাড়া রবিউলের বিধবা তার শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে তার কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন।
নিরপেক্ষতার স্বার্থে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পুলিশ ছাড়া অন্য কোনো বাহিনীর হাতে রবিউলের মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।
এর আগে ১৪ এপ্রিল জুয়া খেলে লালমনিরহাট সদর থানায় যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন রবিউল। পরে তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হলে কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।
এর প্রতিবাদে ওই রাতেই স্থানীয় মহেন্দ্রনগর এলাকায় ঢাকা-লালমনিরহাট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারী এলাকাবাসী। লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলামের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
তবে সন্দেহভাজন এসআই হালিমের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মহেন্দ্রনগর এলাকায় ঢাকা-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে নিহতের পরিবার ও বাসিন্দারা। লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ পরিদর্শক মো. আতিকুল ইসলাম সঠিক তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করার পর আবারও অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
এদিকে রবিউল ইসলামের পরিবার কোনো মামলা করেনি। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রহ্লাদ চন্দ্রকে জুয়া খেলার অভিযোগে আটকের অভিযোগে লালমনিরহাট সদর থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
© সংগৃহীত



Post a Comment