এবারের ঈদে দ্বিগুণ মানুষ ঢাকা ছাড়বে, চরম ভোগান্তির আশঙ্কা

এবারের ঈদে দ্বিগুণ মানুষ ঢাকা ছাড়বে, চরম ভোগান্তির আশঙ্কা
করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে প্রায় দ্বিগুণ মানুষ বাড়ি যাবে বলে অনুমান করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

আসন্ন ঈদযাত্রায় আগামী ২৫ রমজানের দিন থেকে রাজধানী দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অচল হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করছেন তারা। এছাড়া ঈদের মিছিলে অসহনীয় যানজট, পথে যাত্রী হয়রানি, ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ করার জন্য  কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

রোববার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ উদ্বেগ প্রকাশ করে। ঈদের মিছিলে অসহনীয় যানজট, যাত্রী হয়রানি, ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি মনে করে, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ১ কোটির বেশি মানুষ যাতায়াত করবে। এ ছাড়া আরও প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে পারবে। ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত ঈদবাজার, গ্রামের বাড়ি যাতায়াতসহ বিভিন্ন কারণে দেশের বিভিন্ন ক্যাটাগরির পরিবহনে অতিরিক্ত ৬০ কোটি ট্রিপ যাত্রী যেতে পারে। যানজট ও অব্যবস্থাপনার কারণে গণপরিবহনে যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে এবারের ঈদযাত্রায় নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, এবারের ঈদযাত্রায় যানজটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন রাজধানীর মানুষ। তাই এ মুহূর্তে থেকে রাজধানীর সব সড়কের ফুটপাত হকার ও অবৈধ পার্কিংমুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
কবির স্টিল রি-রোলিং মিলস (KSRM)

এদিকে কিছু অসাধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পরিবহন নেতাদের চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন টোল পয়েন্টের কারণে জাতীয় মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট হচ্ছে বলে দাবি করেন মোজাম্মেল হক চৌধুরী। ঈদযাত্রায় সড়কে চাঁদাবাজি ও যানজট দূর করার দাবি জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু পরিবহন মালিক-চালক করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাড়তি ভাড়ার চাপ ও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও পরিবহন সংকটে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

ভাড়া নৈরাজ্যকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও দৃষ্টান্তমূলক কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবার সব রুটে দ্বিগুণ বা তিনগুণ ভাড়া আদায়ে নৈরাজ্য দেখা দেবে। তাই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

রেল ধর্মঘটের কারণে রেলে ব্যাপক শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। তা কাটিয়ে উঠতে না পারলে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ বাড়বে। অনলাইনে ট্রেনের টিকিট দেওয়ার বিষয়টির সমাধান না হলে টিকিট কাউন্টার থেকে যাত্রীরা কালোবাজারিদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রুটে আসন্ন ঈদের আগে ও পরে ১০ দিন বাংলাদেশ বিমানসহ বেসরকারি এয়ারলাইন্সের টিকিট বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি আটক করায় সাধারণ মানুষকে এই ঈদে কয়েকগুণ বেশি দামে টিকিট কিনতে হবে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, নৌপথে নৈরাজ্য ছাড়াও বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সারাদেশে ৪০০ শিপিং ও ফেরিতে নিয়োজিত ইজারাদাররা ঈদে অতিরিক্ত টোল আদায়ে নৈরাজ্য বাড়াচ্ছেন। এবারও তারা সক্রিয় হয়েছেন। এসব রুটে যাত্রীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য আমি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। "

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়াসহ অন্যান্য ফেরিতে প্রায় ৫০ শতাংশ যানবাহন বাড়লেও ফেরির সংখ্যা কমেছে। ফলে এবারের ঈদে নদীর দুই পাড়ে শত শত যানবাহন আটকা পড়বে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এসব ফেরিতে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো এবং বিদ্যমান ফেরিগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। তাই অনুপযুক্ত নৌযানগুলো যাতে বেশি যাত্রী বহন করতে না পারে সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

Post a Comment

Previous Post Next Post